UPDF AI

আবু জাফর শামসুদ্দীনের প্রবন্ধ

সৈয়দ আজিজুল হক

2025 · DOI: 10.62328/sp.v32i2.796
引用数 0

摘要

বাংলা প্রবন্ধের উদ্ভব ও বিকাশের সঙ্গে একটি জাতির সামগ্রিক উজ্জীবন ও কল্যাণের প্রশ্ন জড়িত ছিল। বাঙালি জাতির শিল্প, সাহিত্য, ধর্ম ও দর্শনভাবনা তথ্য তার সমগ্র চিন্ত৷ ও চেতনাজগৎকে মধ্যযুগীয় স্থবিরতা ও স্পষ্টতার অন্ধকার থেকে সংস্কারমুক্ত, আলোকময় ও গতিশীল করে আয়ত-দৃষ্টি দানের প্রয়োজনটি উনিশ শতকের সূচনাকালের প্রাবন্ধিকদের সামনে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। সৃজনশীল শিল্প-প্রয়াসের পাশাপাশি মননশীল ও গবেষণাধর্মী এ-বিশ্লেষণী ধারাটি সমান্তরালভাবে, বিকশিত হয়েছে এবং বাঙালির সমাজ-চৈতন্যকে সমৃদ্ধ করেছে। অন্যদিকে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক পর্বের স্মরণীয় প্রতিভাবানদের সৃষ্টিকর্মে যুগপৎ উভয় ধারার সমান ও সার্থক বিকাশও একটি লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-৯৪), রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১); সুধীন্দ্রনাথ দত্ত (১৯০১-৬০), বুদ্ধদেব বসু (১৯০৮-৭৪) প্রমুখের নাম এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। বাংলা প্রবন্ধের এ-দ্বিবিধ প্রবণতা বাংলাদেশের প্রবন্ধের ক্ষেত্রেও সমানভাবে স্পষ্ট। অগ্রগতি ও পশ্চাদ্মুখিতার দ্বন্দ্ব ও সংক্ষোভ উভয় পর্বে একই মাত্রায় বর্তমান থাকলেও বাংলাদেশের প্রবন্ধের সূচনাপর্বে পশ্চাদ্‌গতির বিভ্রান্তি ও মোহময়ত৷ অতিরিক্ত উপাদান হিসেবে ক্রিয়াশীল ছিল। তবে এ বিভ্রান্তি থেকে যে-স্বল্প কয়েকজন প্রাবন্ধিক আদ্যোপান্ত মুক্ত ছিলেন, তার মধ্যে আবু জাফর শামসুদ্দীনের (১৯১১-৮৮) নাম উল্লেখযোগ্য। প্রাতিষ্ঠানিক বিচারে স্বল্পশিক্ষিত ও মাদ্রাসাউত্তীর্ণ হয়েও স্বচেষ্টা, নিরবচ্ছিন্ন অধ্যয়ন- স্পৃহা ও একনিষ্ঠ জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে কিভাবে সর্বাংশে একজন মধ্যবিত্ত-প্রতিনিধি ঐতিহ্যবিবর্জিত পরিবেশেও একটি জাতির চূড়াস্পর্শী শিল্পবোধ ও মানবিক- চেতনা এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন মনীষার অধিকারী হতে পারেন, আবু জাফর শামসুদ্দীন তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত৷

参考文献
引用文献